এ,এস,এম জুলফিকুর রহমান,সরিষাবাড়ী (জামালপুর) সংবাদদাতাঃ
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে টাকার বিনিময়ে পাবলিশার্সদের নিম্নমানের গাইড বই
শিক্ষার্থীদের পাঠ্য করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে এক শ্রেণির বই বিক্রিতা এবং প্রকাশকেরা । ফলে এই সব কোমলমতি শিক্ষার্থীরা নিম্নমানের নিষিদ্ধ গাইড বই পড়ে তাদের মেধা বিকাশে যেমন ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তেমনি অভিভাবকেরাও অধিক মূল্যে বই ক্রয় করে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ।বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে ঘুরে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের নিকট জানা গেছে, সরিষাবাড়ী উপজেলায়র্দীর্ঘ ২৫ বছর যাবত আরামনগর বড় বাজারস্থ জছিমিয়া লাইব্রেরীর মালিক একচেটিয়া ভাবে ব্যবসা করে আসছেন । বিশেষ সরিষাবাড়ীর জছিমিয়া লাইব্রেরী এবং জামালপুর জেলা সদরের বই ঘরের মালিক পাবলিশার্সের সাথে যোগাযোগ করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে চুক্তি ভিত্তিক বছরের পর বিছর এই ব্যবসা করছেন । আর এই গোপন খবরটা প্রথম দিকে উপজেলা পর্যায়ে কোন শিক্ষক সমিতি অথবা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকেরা অবগত ছিলেন না । প্রথমার্ধে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে এক সেট সৌজন্য মূলক বই দিয়ে তাদের পছন্দের বই পাঠ্য করে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করতো। পরে বিভিন্ন লাইব্রেরী এবং বই প্রকাশনীদের প্রতিযোগিতা মূলক ব্যবসায় ঘটনাটি এলাকায় প্রচার হয়ে পড়ে । ইতোমধ্যে সরিষাবাড়ী পৌর সভার আরামনগর বড় বাজারের জছিমিয়া লাইব্রেরী এবং জামালপৃরের বই ঘর লাইব্রেরী পাবলিশার্সদের সাথে কন্ট্রাকে বই এনে লক্ষ লক্ষ টাকা বানিয়ে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে উঠে। জানা যায়, বুক লিস্ট ছাড়ার পর প্রতিটি গাইড বইয়ে নতৃন করে মূল্য বসিয়ে শিক্ষার্খীদের কাছে বিক্রী করে।বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা দুটি লাইব্র্রেরীর কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে । তাদের মধ্যে একটি হলো সরিষাবাড়ী উপজেলার আরামনগর বাজারের জছিমিয়া লাইব্রেরী এবং অন্যটি হলো জামালপুর সদরে বই ঘর লাইব্রেরী । পুথি নিলয় প্রকাশনীর সাথে চুক্তি করে জছিমিয়া লাইব্রেরীর পক্ষে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন, আঃ হক আর জামালপুর জেলা সদরের বই ঘর লাইব্রেরীর পক্ষে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন মিজানুর রহমান মিজান নামে দুই ভদ্রলোক। অন্যান্য বছরের মত এবারও জছিমিয়া লাইব্রেরী পুথি নিলয় এবং জামালপুর বই ঘরের মালিক গ্রন্থ পুঞ্জি প্রকাশনীর বাংলা, ইংরেজী গ্রামারসহ অন্যান্য সহায়ক গাইড বই আমদানী করে ।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বই ব্যবসায়ী জানান, এ বছর পুথি নিলয় প্রকাশনীর ম্যানেজার আঃ হকের মাধ্যমে সরিষাবাড়ী উপজেলার দুই সমিতির মধ্যে এক সমিতির ১৫ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পৃথক পৃথক ভাবে যোগাযোগ করে মোট ১৭ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা প্রদান করে । আর এই কাজটি করতে পুথি নিলয়ের ম্যাসেজার আঃ হক স্থানীয় প্রভাবশালী ও দলীয় সহকারী শিক্ষকদের হাতে আরো ৩ লক্ষ টাকা উ॥কোচ প্রদান করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরপর অন্য আর একটি সমিতির ২৫ টি স্কুলের মধ্যে ২০ টিতে ৩০ লক্ষ টাকা এবং বাকী ৫ টিতে আলাদা আলাদা ভাবে ১২ লক্ষ টাকা প্রদান করেন জামালপুর জেলা সদরের বই ঘর লাইব্রেরীর যোগাযোগ ম্যানেজার মিজানুর রহমান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক জানান , বই পাঠ্য করণ নিয়ে ইতোমধ্যে কোন কোন ¯কুলে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং হাতাহাতিও হয়েছে। প্রধান শিক্ষকেরা চান ভাল বই পাঠ্য করতে কিন্তু সহকারী শিক্ষকেরা ভালো বই নয় ,তারা চান টাকা । যারা বেশী টাকা দিবেন, তাদের বই পাঠ্য করবেন। এতে ভালো মন্দের কোন যায় আসে না।এদিকে গরীব শিক্ষার্থীদের অভিভাবক গন নিম্নমানের গাইড বই কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। জনৈক এক ছাত্রের অভিভাবক জানান , আমরা গরীব মানুষ , নুন আনতেই পান্তা ফুরায় । অথচ আমি আমার ছেলের জন্য একটি গাইড এবং ইংরেজী গ্রামার বই কিনলাম সাড়ে নয় শত টাকা দিয়ে । আরো তো বই কেনার আছেই । আরেক অভিভাবক জানান, সরকার বিনা মূল্যে বই বিতরন করেন , সেখানে এক পয়সাও খরচ লাগে না অথচ গাইড বই কিনতেই আমাদের কর্ম সাড়া। তিনি আরো বলেন, এক শ্রেণির বই ব্যবসায়ী এবং প্রকাশণীর মালিকেরা সেন্ডিকেট করে জনগনের লক্ষ লক্ষ টাকা লুটে নিচ্ছে । অথচ দুদক এত যায়গায় হামলা দেন এসব বই বিক্রিতা এবং প্রকাশনীদের ধরতে পারেন না। পৌর সভা এলাকার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, সরকার ছাত্র-ছাত্রীদের লেখা পড়ার খরচের জন্য যে উপবৃত্তির টাকা দেন কার ১০/১২ গুন টাকা খরচ হয় গাইড বই কিনতে। আমার মেয়েকে তিন রকমের গাইড বই কিনে দিলাম। স্কুল পাঠ্য করেছে রেডিয়ান্টের গাইড বই, কোচিং থেকে করেছে পাঞ্জেরী এবং প্রাইভেট টিচার করেছে এডভান্স গাইড । এথন আমরা কি করবো । সরকার ইচ্ছা করলে একটা সুনির্;িষ্ট গাইড বই স্বল্প মূল্যে শিক্ষার্থীদের পাঠ্য করে শিক্ষার্খীদের হাতে তুলে দিলে ওরাও বেচে যেতো আমরাও বেচে যেতাম ।সরিষাবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোজাম্মেল হক জানান, গাইড বই বিক্রী করা সরকারী ভাবে সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ । আর এ বিষয়টি আমি জানি না । এটা একটি দন্ডনীয় অপরাধ । আমি বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো ।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯/ইকবাল